ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দেশের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তার বোন লোকসভার সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ আরও বেশ কয়েকজন বিরোধী এমপিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সোমবার সকাল থেকে এই পরিস্থিতি বিরোধী দলগুলোর জন্য নতুন বিস্তৃত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাস পূর্ণ সন্দেহ ও সংশয় ঘেরা একটি নির্বাচন পরিস্থিতির জন্যই এই প্রতিবাদ। বিরোধীরা অভিযোগ করে আসছে যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির অনৈতিক সহযোগিতা ও ভোটার তালিকা বদলে সরকারের নির্বাচনী জয়কে শক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে নির্বাচনের পর সইখ্য থেকে বেআইনিভাবে ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর অভিযোগগুলি তলে তলে ষড়যন্ত্রের গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট নির্বাচন কমিশনের অফিসে এক প্রতিবাদ জনসমাবেশের আয়োজন করে। কিন্তু পুলিশ আগেভাগে সংসদের চারপাশের সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়, ব্যারিকেড বসায় ও নিরাপত্তা জোরদার করে আন্দোলনকারীদের প্রতারিত করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত এবং অচেনা অভিযোগে আহত মিতালি বাগ, যার সময় অজ্ঞানতায় পড়ে রাহুল গান্ধী তাঁকে উদ্ধার করেন।
এই গ্রেফতারের ঘটনা প্রসঙ্গটি শুধু দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেনি, বরং এ নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চাপাচ্ছে প্রশ্ন—জবাবদিহিতার জায়গা কি ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা?
নির্বাচন কমিশন অবশ্য নিজেদের সমালোচনার প্রতিহিংসা করে বলেছে, তাদের কাজ স্বচ্ছ এবং নির্বাচনের সততার পথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, বিরোধীরা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলছেন: “তালিকাভুক্ত ভোটার গুণমান যাচাইয়ের সময় দেওয়া হোক; সংশোধনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়া ভোটারদের আপিলের সুযোগ হোক।”

