চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত অর্থবছরের তুলনায় এটি ১৬.৫ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবু রহমান এই লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য সচিব জানান, ব্যবসায়ী ও খাত সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ বছর রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাতভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা নিচে তুলে ধরা হলো:
ওভেন গার্মেন্টস (Woven):
১৪.৩১% প্রবৃদ্ধি ধরে আয় লক্ষ্যমাত্রা ২০.৭৯ বিলিয়ন ডলার
নিটওয়্যার (Knitwear):
১২.০১% প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা ২৩.৭ বিলিয়ন ডলার
হোম-টেক্সটাইল:
১৭.০৩% প্রবৃদ্ধি ধরে আয় লক্ষ্যমাত্রা ১.০২ বিলিয়ন ডলার
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য:
৯.১৬% প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা ১.২৫ বিলিয়ন ডলার
(যেখানে খাত প্রতিনিধিরা ৩০% প্রবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন)
হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ:
২২.০৬% প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা ৫৩৯ মিলিয়ন ডলার
পাট ও পাটজাত পণ্য:
৯.৭৩% প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা ৯০০ মিলিয়ন ডলার
কৃষিপণ্য:
২২.৪৩% প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা ১.২১ বিলিয়ন ডলার
বাণিজ্য সচিব আরও বলেন,
“পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে ল্যাব টেস্টিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের পাট ও কৃষিপণ্য খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হিমায়িত মাছ রপ্তানি খাতে ভেনামি চিংড়ির হ্যাচারি লাইসেন্স প্রদান এবং কোয়ারেন্টিন সুবিধা জোরদার করলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ানো সম্ভব।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও কাঁচামালের দামের অস্থিরতা রপ্তানি খাতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, দক্ষতা ও প্রযুক্তি বৃদ্ধি করে তা মোকাবেলা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা।

