সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

১৬ আগস্ট চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম-ঢাকা তেল সরবরাহ প্রকল্প

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হচ্ছে আসছে ১৬ আগস্ট। এই আধুনিক ব্যবস্থা চালু হলে মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৫০ লাখ লিটার ডিজেল ঢাকা অঞ্চলে পৌঁছাবে, যা পূর্বের তুলনায় অন্তত দেড় দিন সময় ও বছরে ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে।

৩,৬৫৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। তত্ত্বাবধানে রয়েছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি।

পাইপলাইনের বিবরণ ও কার্যপ্রণালী

  • দৈর্ঘ্য: ২৫০ কিলোমিটার (চট্টগ্রাম পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত)

  • ব্যাসার্ধ: পতেঙ্গা-সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ ইঞ্চি, সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি

  • মোট পাইপলাইন: ২৪২ কিমি + ৮ কিমি

  • প্রথম ধাপে বার্ষিক সরবরাহ: ১৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল

প্রথমে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলের ট্যাংকে ডিজেল নেয়া হবে। সেখান থেকে ডেসপাস টার্মিনালের মাধ্যমে কুমিল্লা হয়ে ঢাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় পৌঁছাবে।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক জানান, “চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত তেল পরিবহনে এখন সময় লাগবে মাত্র ১২ ঘণ্টা।”

আধুনিক প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ সরবরাহ ব্যবস্থা

প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছে সেন্ট্রাল অটোমেশন ও টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি। পতেঙ্গার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই সম্পূর্ণ পাইপলাইনের তেল সরবরাহ, নিরাপত্তা ও কার্যক্রম মনিটরিং করা যাবে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জানান, “নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে।”

অর্থনৈতিক লাভ ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা

  • বার্ষিক আয় (প্রকল্প থেকে): ৩২৬ কোটি টাকা

  • খরচ: ৯০ কোটি টাকা

  • সাশ্রয়: ২৩৪ কোটি টাকা

এই পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৩০ শতাংশের বেশি জোগান আসবে ঢাকায়। ভবিষ্যতে পাইপলাইন বাঘাবাড়ি, আশুগঞ্জ ও ভৈরব পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে ডিজেল সরবরাহ বেড়ে দাঁড়াবে ২১ লাখ মেট্রিক টন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন