জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ওপর দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় আদালতের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। মামলার বাদী, দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নিজেই মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আদালত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আদেশ দেন।
জি এম কাদেরের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী মনোয়ার হোসাইন আলম আজ বুধবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত বিচারক রোবায়েত ফেরদৌস গতকাল মঙ্গলবার মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করেন। এর আগে, ২ আগস্ট জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন দাখিল করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই জাতীয় পার্টির সদ্য পদত্যাগ করা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ দলটির দশজন সাবেক শীর্ষ নেতা একযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়, ২০১৯ সালে জিএম কাদেরকে গঠনতন্ত্র পরিপন্থীভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদনসহ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, যা ছিল অবৈধ।
দলীয় নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জুলাই ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত জি এম কাদেরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় জাপার অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের প্রশ্নে এ মামলা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তবে মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে দলের ভেতরে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তে জি এম কাদেরের নেতৃত্ব পুনরায় সক্রিয়ভাবে দলের কার্যক্রমে ফিরে আসার পথ সুগম হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

