সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দ্বি-স্তরের টেস্ট কাঠামো নিয়ে আশঙ্কায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর দেউলিয়া হওয়ার শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বিশ্ব ক্রিকেটে টেস্ট সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃত ও নিয়মতান্ত্রিক করতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কাজ করছে দ্বি-স্তরের টেস্ট কাঠামো চালুর পরিকল্পনায়। লক্ষ্য—কম খেলা দেশগুলোকেও নিয়মিত লাল বলের ক্রিকেটে অন্তর্ভুক্ত করা। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন, টেস্ট খেলার চাপ দিলে কিছু দেশ অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।

“টেস্ট ক্রিকেটে স্বল্পতা আমাদের বন্ধু। সব দেশকে টেস্ট খেলাতে জোর করলে অনেক দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে,” — বলেন গ্রিনবার্গ।

গ্রিনবার্গের মতে, সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানসম্পন্ন টেস্ট ম্যাচ আয়োজনেই টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ টিকে আছে। তিনি উদাহরণ টানেন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ ও সাম্প্রতিক ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও দর্শকপ্রিয়তার দিক দিয়ে অসাধারণ সফল।

এর বিপরীতে তিনি তুলে ধরেন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে সিরিজের কথা, যেগুলো একপাক্ষিক ছিল এবং কার্যত প্রতিযোগিতাহীন।

“আমরা বিনিয়োগ করতে চাই সেখানে, যেখানে টেস্ট ক্রিকেটের অর্থ আছে, প্রতিযোগিতা আছে। অ্যাশেজ বড় কারণ এর অর্থবহতা রয়েছে,” — বলেন সিএ প্রধান।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগের জনপ্রিয়তা ও বিপুল অর্থ উপার্জনের সুযোগে অনেক খেলোয়াড় লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে আসছেন। ‘দ্য হান্ড্রেড’, আইপিএল, বিপিএল, এলপিএল সহ বিভিন্ন লিগের দাপটে আন্তর্জাতিক টেস্ট সিরিজের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট বোর্ডগুলো এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি—আর্থিক লাভ বনাম ঐতিহ্য। ফলে আইসিসির দ্বি-স্তর কাঠামো যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে তা টেস্ট ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে, আবার কিছু দেশের জন্য হতে পারে বিপর্যয়ের কারণ।

এ পরিস্থিতিতে আইসিসি বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। লক্ষ্য—দ্বি-স্তর কাঠামো চালু করলে এর অর্থনৈতিক, প্রতিযোগিতামূলক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা।

টেস্ট ক্রিকেট তার ঐতিহ্য ও গৌরব নিয়ে টিকে থাকুক—এমন প্রত্যাশা সকল ক্রিকেটপ্রেমীর। তবে সেটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন বাস্তবমুখী পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক ভারসাম্য এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার নীতি।

কীভাবে এই ভারসাম্য তৈরি করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন