পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বভাবগত আকর্ষণের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নারী, সন্তান, ধনসম্পদ, জমিজমা এবং সজ্জিত জীবনের প্রতি ভালবাসা। কিন্তু এসব শুধু পার্থিব জীবনের সাময়িক উপকরণ—আসল পুরস্কার ও শ্রেষ্ঠ জীবন আল্লাহর কাছেই রয়েছে।
কোরআনের ভাষায়:
“সুশোভিত করা হয়েছে মানবজাতির জন্য নারী, সন্তান-সন্ততি, সঞ্চিত স্বর্ণ ও রৌপ্যভাণ্ডার, প্রশিক্ষিত ঘোড়া, পালিত পশু এবং শস্যক্ষেতের প্রতি ভালোবাসা ও আকর্ষণকে। এটা পার্থিব জীবনের সম্পদ এবং আল্লাহর কাছে রয়েছে শ্রেষ্ঠতম অবস্থান।” (সূরা আলে ইমরান: ১৪)
এক সময় মানুষ দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ ও দুর্যোগে মানবেতর জীবন যাপন করত। কিন্তু বর্তমান সমাজে মৌলিক চাহিদাগুলো অনেকাংশেই পূরণ হচ্ছে। এখন অনেকেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে সম্পদ জমিয়ে রাখতে আগ্রহী, যা ইসলামী দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় নয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে, শুধু ধন-সম্পদ জমিয়ে রাখা নয় বরং প্রয়োজনীয় ব্যয় করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলাম মনে করে, নিজের ও পরিবারের জন্য খরচ করাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
কোরআনে আল্লাহ বলেন:
“আর তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আল্লাহ তাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তাতে কৃপণতা করলে, তাতে তাদের মঙ্গল আছে। বরং এ কৃপণতা তাদের জন্য অমঙ্গল। তারা যে ধন-সম্পদের জন্য কৃপণতা করে, কিয়ামতের দিন তাই তাদের গলার বেড়ি হবে।” (সূরা আলে ইমরান: ১৮০)
সহিহ বুখারিতে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া ধন-সম্পদ থেকে জাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদ বিষাক্ত সাপের রূপ ধারণ করে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে এবং তা তাকে দংশন করে বলবে: “আমি তোমার সেই ধন, যা তুমি জমিয়ে রেখেছিলে!”
ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ সঞ্চয় নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয়, দান-সাদকা এবং জাকাত আদায় করেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ সম্ভব। নফল দান ও সাদকাও পরকালের মুক্তির পথ সুগম করে।
যদি কেউ ধন-সম্পদ জমিয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করে, আর সেই সম্পদ উত্তরাধিকারীরাও সঠিকভাবে ব্যবহার না করে—তাহলে সেই সঞ্চিত সম্পদের কোনোই উপকার হয় না মৃত ব্যক্তির জন্য।

