সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে কসম: ইসলাম কী বলে?

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইসলাম ধর্মে শপথ বা কসম নেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে কঠোর নীতিমালা। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কসম শুধুমাত্র আল্লাহর নামে নেওয়া বৈধ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নামে কসম করা ইসলামে হারাম এবং শিরকের একটি রূপ হিসেবে গণ্য হয়, যা অন্যতম বড় গুনাহ হিসেবে বিবেচিত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবি হজরত ওমর (রা.) যখন তার পিতার নামে কসম করেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে সতর্ক করে বলেন,
“সাবধান! আল্লাহ তোমাদেরকে পিতা-পুরুষের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কসম করতে হলে আল্লাহর নামেই করবে, না হলে চুপ থাকবে।”
(সহিহ বুখারি: হাদিস ৬১০৮)

আরেকটি হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন,
“আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম করে, সে শিরক করল।”
(সুনানে আবু দাউদ: হাদিস ৩২৫১)

বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম করলে সেটি কসম হিসেবেই গণ্য হয় না। ফলে তা রক্ষা করারও বাধ্যবাধকতা নেই এবং ভঙ্গ করলেও কাফফারা দিতে হয় না। তবে এমন কসম করা হারাম হওয়ায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা আবশ্যক।

অন্যদিকে, কেউ যদি আল্লাহর নামে কসম করে এবং তা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে দিতে হয় কাফফারা। কোরআনুল কারিমে কাফফারার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
সুরা মায়েদা (আয়াত ৮৯) অনুযায়ী, কসম ভঙ্গের কাফফারা হলো:

  1. ১০ জন দরিদ্রকে দু’বেলা তৃপ্তি সহকারে খাবার খাওয়ানো,

  2. অথবা ১০ জনকে পোশাক প্রদান,

  3. অথবা একজন দাস মুক্ত করা (বর্তমানে প্রযোজ্য নয়),

  4. এসব সম্ভব না হলে টানা তিন দিন রোজা রাখা।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আল্লাহ তোমাদের নিরর্থক কসমের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না, তবে যেসব কসম তোমরা দৃঢ়ভাবে কর, সেসবের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করেন…”
(সূরা আল-মায়েদা: আয়াত ৮৯)

বিশিষ্ট আলেমগণ বলেন, মুসলিমদের উচিত কসমের বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং মুখের কথা বলার সময় দায়িত্বশীল হওয়া। কসম আল্লাহর নামে হলে তা পূরণে যত্নবান হতে হবে, অন্যথায় গোনাহ থেকে বাঁচতে কাফফারা আদায় করতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন