আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। একদিকে কিছু রাজনৈতিক দল ভোটের আগে রাজনৈতিক সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবি জোরালো করেছে, অন্যদিকে সরকার জানিয়ে দিয়েছে, পূর্বঘোষিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নির্বাচনের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা যে সময় উল্লেখ করেছেন, সেই অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। প্রস্তুতিও চলছে সে অনুযায়ী।”
তিনি আরও জানান, তিস্তা নদী অববাহিকার উন্নয়নে আগামী জানুয়ারি থেকে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘তিস্তা মহা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন শুরু হবে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ১০ বছর। এর আওতায় নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সম্প্রতি জাতীয় যুব শক্তির এক সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “নতুন সংবিধান ও সংস্কার ছাড়া দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।” একই ধরনের বক্তব্য দেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও।
জামায়াত-ই-ইসলামিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পক্ষে নয়। তাদের মতে, জাতীয় সংলাপ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই হবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, কমিশন নির্বাচন নিয়ে কোনো দ্বিধায় নেই। সব প্রস্তুতি ফেব্রুয়ারির ভোটকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক সরবরাহ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব হাসান বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সময়মতো হওয়া জরুরি। তবে রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।”
একদিকে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যেখানে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলছে, সেখানে বিরোধী দলগুলোর নানা বক্তব্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে—রাজনৈতিক ঐক্য ও অংশগ্রহণ ছাড়া এই নির্বাচন কতটা কার্যকর হবে?

