ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ একাধিক সংকটে জর্জরিত — অপ্রতুল আবাসন, নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ হল ভবন, নিম্নমানের খাবার এবং গবেষণার অনুপযুক্ত পরিবেশের কারণে ব্যাহত হচ্ছে তাদের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত জীবন। এই বাস্তবতায় আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের জরাজীর্ণ বারান্দা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। লোহার পাইপের উপর ভর করে কোনোমতে টিকে থাকা ছাদ যেন যেকোনো সময় প্রাণঘাতী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। শুধু এসএম হল নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হলেই রয়েছে এ ধরনের ঝুঁকি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই রয়েছেন হলের বাইরে — মেস বা সাবলেট জীবনে নানা অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা।
হল ক্যান্টিন বা ক্যাফেটেরিয়ার খাবার নিয়ে অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। শিক্ষার্থীরা বলছেন, খাবারে স্বাদ তো দূরের কথা, স্বাস্থ্যের ঝুঁকিই বড় হয়ে দেখা দেয়। নোংরা পরিবেশ, বারবার পচা মাংস বা বাসি ভাত খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিকাঠামোর অভাবও স্পষ্ট। প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে মূল গ্রন্থাগারে আসন সংখ্যা মাত্র ২ হাজার। ফলে পাঠচর্চা বা গবেষণার পরিবেশ নেই বললেই চলে।
ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে প্রত্যাশাও। শিক্ষার্থীরা বলছেন, আর কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য পরিবর্তন চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “নেতা নির্বাচিত হলে যেন সে ক্যান্টিনে খাবার খায়, লাইব্রেরিতে পড়ে—তাহলেই বোঝা যাবে সমস্যা সে অনুভব করে কি না।”
ভোটের প্রচারে নেমে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও বলছে, এবারের ইশতেহারে থাকবে বাস্তবধর্মী প্রতিশ্রুতি। তারা বলছেন, নির্বাচিত হলে সিনেট, উপাচার্য বা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে দৃঢ় থাকবে তারা।

