বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সরকারি উদ্যোগে ২৬০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সাশ্রয়ী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ২৬০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নতুন মূল্য নির্ধারণে উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে সাধারণ জনগণ বিশেষত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ ওষুধ সাশ্রয়ী দামে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ওষুধ উৎপাদনকারীদের প্রতিনিধি ছাড়া গঠিত টাস্কফোর্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তারা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। আগামীকাল মঙ্গলবার টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম জানিয়েছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিয়মিত তদারকি ও হালনাগাদ করা হবে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ এই কার্যক্রমে সরকারকে সহযোগিতা করছে। WHO-এর একটি পরামর্শক দল ২২ আগস্ট ঢাকায় আসবে।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেছেন, “ওষুধ প্রস্তুতকারক ছাড়া দাম নির্ধারণ করা হলে সেটি বাস্তবসম্মত হবে না। শুধু কাঁচামালের দাম নয়, গবেষণা, মান নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন প্রযুক্তির খরচও হিসেব করা দরকার।”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আইকিউভিআইএ বলছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৪৪ শতাংশই ব্যয় হয় ওষুধে, যেখানে বৈশ্বিক গড় ১৫ শতাংশ। ২০২২ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, ওষুধের উচ্চমূল্যের কারণে প্রায় ৬১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।

ওষুধ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে ভারতসহ অন্যান্য দেশের মতো জাতীয় কর্তৃপক্ষ গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে। এই কর্তৃপক্ষের প্রধান হবেন মন্ত্রী পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

ওষুধের কাঁচামাল (API) খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার ১১ সদস্যের একটি আলাদা কমিটি গঠন করেছে। এক মাসের মধ্যে এই কমিটি সুস্পষ্ট কৌশলপত্র জমা দেবে। এর মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং প্রবেশযোগ্য চিকিৎসা সেবার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, প্রমাণভিত্তিক নীতিমালা দরকার। তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া এই উদ্যোগ সফল হবে না বলে তারা সতর্ক করছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন