ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ পুলিশের ১৮ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন উপসচিব নাসিমুল গনি। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—
-
৩ জন ডিআইজি,
-
৬ জন অতিরিক্ত ডিআইজি,
-
৪ জন পুলিশ সুপার (এসপি),
-
৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) এবং
-
১ জন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(গ) অনুযায়ী পলায়নকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে, বিধি ১২ উপবিধি (১) অনুযায়ী তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তের সময়কালে কর্মকর্তারা সরকার নির্ধারিত খোরপোষ ভাতা পাবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, “জনস্বার্থে” এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তর বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা দেশত্যাগ সংক্রান্ত কোনো গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ এর আগেও একাধিকবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আলোচনায় ছিলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হেনস্তা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে তার নাম উঠে আসে। তবে তিনি সবসময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন।
এই বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে মনে করছেন, পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

