ইসলাম এতিম, অসহায় ও দরিদ্র শিশুদের সহানুভূতির সঙ্গে দেখার শিক্ষা দেয়। কোরআন ও হাদিসে এমন শিশুদের সাহায্য করা, আশ্রয় দেওয়া এবং স্নেহ প্রদর্শনের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে একইসঙ্গে ইসলামে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও আইনি নির্দেশনা—বিশেষ করে পিতৃপরিচয় সংক্রান্ত বিষয়ে।
দত্তক নয়, পালক সন্তান হিসেবে দেখার নির্দেশ
কোনো ব্যক্তি যদি এতিম বা অনাথ শিশুকে নিজের ঘরে আশ্রয় দেন, তাকে লালন-পালন করেন—তবে তা ইসলাম অনুযায়ী মহৎ এবং সওয়াবের কাজ। তবে তাকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেওয়া বৈধ নয়। জন্মদাতা পিতার পরিচয় গোপন করে শিশুটিকে নিজের বংশের অন্তর্ভুক্ত করা ইসলামে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তোমরা পালকপুত্রদের তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সংগত। যদি তাদের পিতৃপরিচয় জানা না থাকে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই ও বন্ধু।”
— (সুরা আহযাব: ৫)
পিতৃপরিচয় গোপন করলে কঠোর সতর্কতা
এমনকি, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে পরিচয় দিলে তার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
“যে ব্যক্তি নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা হিসেবে পরিচয় দেয়, অথচ সে জানে সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।”
— (সহিহ বুখারি: ৬৭৬৬)
এতিমের প্রতি দয়া = জান্নাতে রাসুলের সান্নিধ্য
অপরদিকে, ইসলাম এতিমদের প্রতি দয়ার প্রতিদানও দান করেছে চিরস্থায়ী সম্মান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আমি এবং যে ব্যক্তি এতিমের দায়িত্ব নেয়, সে জান্নাতে এভাবে থাকবে” — বলে তিনি দুই আঙুল মিলিয়ে দেখিয়েছেন।
— (সহিহ বুখারি)
ইসলাম কী বলছে?
-
এতিম বা অসহায় শিশুকে আশ্রয় দেওয়া: সওয়াবের কাজ
-
তার পিতৃপরিচয় গোপন করে নিজের সন্তান বানানো: হারাম ও শাস্তিযোগ্য কাজ
-
শিশুকে দত্তক না বলে “পালিত সন্তান” বলা উচিত
-
পিতৃপরিচয় না জানা থাকলে? — “দ্বীনি ভাই” হিসেবে পরিচিত করা

