বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড: ট্রাইব্যুনালে লোমহর্ষক সাক্ষ্য, লাশ পোড়ানোর ভিডিও উপস্থাপন

ডেস্ক রিপোর্ট।।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার মামলার শুনানিতে নিহত আস-সাবুরের পিতা মো. এনাব নাজেজ জাকিসহ তিনজন সাক্ষী আদালতে তাদের জবানবন্দি প্রদান করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে এনাব নাজেজ জাকি ট্রাইব্যুনালে দুটি ভিডিও উপস্থাপন করেন, যেখানে আন্দোলনের পরপরই কয়েকজনের মৃতদেহ রিকশাভ্যানে করে সরানো এবং পরে একটি পুলিশ ভ্যানে লাশ পোড়ানোর দৃশ্য দেখা যায়। তিনি আদালতে দাবি করেন, ভিডিওতে চিহ্নিত দেহের একটি ছিল তার ছেলে আস-সাবুরের।

সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ছেলের পোড়া দেহ শনাক্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়ী করেন।

একইদিন রাজশাহী ও যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত আন্দোলন-সংক্রান্ত সহিংসতার বিষয়ে আরও দুইজন ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। রাজশাহীর এক প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিন বলেন, আন্দোলনের সময় গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড এবং হামলার মাধ্যমে নিরীহ ছাত্রদের টার্গেট করা হয়। যাত্রাবাড়ীতে নিহত ইমাম হাসান তায়িম ভূঁইয়ার ভাই রবিউল আওয়াল তার জবানবন্দিতে বলেন, পুলিশ সদস্যদের গুলিতে তায়িম নিহত হন এবং আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধারেও বাধা দেওয়া হয়।

এ মামলায় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাদের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেছেন, যা ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আগামীকাল বুধবার মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন