বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি আবারও বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিনশেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ। তিনি বলেন, “২১ আগস্টের মতো ভয়াবহ ঘটনায় বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড বাতিল করে হাইকোর্ট সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন— যা প্রমাণ, সাক্ষ্য ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
তিনি বলেন, “এই রায় ন্যায়বিচার পরিপন্থী, এবং রাষ্ট্রপক্ষের আপিল তারই সংশোধনের চেষ্টা।”
এদিকে তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও শিশির মনির দাবি করেন, “এই মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা থেকে তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে।”
শাহজাহান বলেন, “২১ আগস্টের ঘটনায় আইভি রহমানসহ অন্য ভিকটিমদের বিচার চাওয়ার চেয়ে শেখ হাসিনার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করা।”
আইনজীবী কায়সার কামাল প্রশ্ন তোলেন, “একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে— যেমন মুফতি হান্নান— সাক্ষী হিসেবে নেওয়া আইনগতভাবে বৈধ ছিল কি না?”
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন, আহত হন শতাধিক। ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
তবে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এই রায় বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন, যার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ১ জুন আপিলের অনুমতি পায় এবং বর্তমানে আপিল বিভাগে চলছে শুনানি।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামীকাল (বুধবার) আসামিপক্ষের শুনানির দিন ধার্য করেন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আসামিপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে খালাস রায় বহাল রাখার পক্ষে চাপ দেবে।

