পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। তিনি বলেছেন, আলাদাভাবে পিতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে এ ধরনের ছুটি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সহায়তা করে বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ)।
নূরজাহান বেগম বলেন, “আমি নিজেও একজন মা। আমার ব্যক্তিগত মত, আলাদা পিতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার দরকার নেই। তবে যদি ছুটি দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা হতে হবে শর্তসাপেক্ষে। যেমন—
১. পিতা কতক্ষণ শিশুর যত্ন নিয়েছেন,
২. মাকে কীভাবে সহায়তা করেছেন,
৩. এসব কার্যক্রম লিখিতভাবে জানাতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস কে রায় জানান, দেশে শিশুর একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধপানের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।
২০১৭-১৮ সালে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালের জরিপে নেমে এসেছে ৫৮ শতাংশে।
তিনি বলেন, “এই হার কমার পেছনে সচেতনতা অভাব, বিএমএস (ব্রেস্ট-মিল্ক সাবস্টিটিউট) আইনের কার্যকর প্রয়োগ না হওয়া এবং কর্মজীবী মায়েদের পর্যাপ্ত ছুটি না পাওয়া— এসব কারণ কাজ করছে।”
উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, “শিশুদের গুঁড়া দুধের দিকে ঠেলে না দিয়ে মায়ের দুধ খাওয়ানোর চর্চা বাড়াতে হবে। চিকিৎসক, ধর্মীয় নেতা, এনজিও এবং গণমাধ্যম— সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সরোয়ার বারী বলেন, “মেধাসম্পন্ন ও সুস্থ জাতি গড়তে হলে মাতৃদুগ্ধপান নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক আশরাফী আহমদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন এবং বিবিএফের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম।
এদিকে রোববার (১৭ আগস্ট) নারী সংশ্লিষ্ট অধিকার ও কর্ম-পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন পিতৃত্বকালীন ছুটি প্রসঙ্গে নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে।
কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পিতৃদের জন্য পূর্ণ বেতনে কমপক্ষে দুই সপ্তাহের ছুটি আইনগতভাবে নিশ্চিত করা উচিত।

