রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘বড় নেতা হয়েছেন, শিক্ষার্থীর ভাগ্য বদলায়নি’: সাদিক কায়েমের অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ভিপি (সহসভাপতি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন জোটের প্রার্থী সাদিক কায়েম। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসু দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তৈরির প্ল্যাটফর্মে পরিণত হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর কিছু করতে পারেনি।

সাদিক বলেন, “যারা ডাকসুতে জয়ী হয়েছেন, তাদের অনেকেই আজ দেশের বড় নেতা। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীর ভাগ্য আজও অপরিবর্তিত। পাঠ্যসূচি, আবাসন, নিরাপত্তা কিংবা ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ—সব কিছুতেই দুর্বলতা রয়েছে।” তিনি জানান, ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও সমস্যা নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই নির্বাচন করছে।

তিনি আরো বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে আমরা ছাত্ররাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। আমাদের ইশতেহারে থাকবে শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা—যেমন আবাসন সংকট, নিরাপদ ক্যাম্পাস, শিক্ষা উপকরণে ব্যয় কমানো ও অনলাইন রিসোর্সে সহজ প্রবেশাধিকার।”

সাদিক কায়েম ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ অভিযোগ করেন, মনোনয়নপত্র জমা ও সংগ্রহের সময় বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছে। ফরহাদ বলেন, “এ ধরনের আচরণ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। প্রশাসনের এই একতরফা সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃতভাবে একটি দলের সুবিধা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে।”

একই সঙ্গে ফরহাদ অভিযোগ করেন, “কিছু গণমাধ্যম আমাদের প্যানেলকে ‘শিবিরের প্রথম প্রকাশ্য প্যানেল’ বলে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। বাস্তবে ১৯৭৯ সাল থেকেই বিভিন্ন ডাকসু নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করে এসেছি এবং বিজয়ী প্রার্থীও দিয়েছি।” তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে বিভ্রান্তি ছড়ানো না হয়।”

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট দাবি করেছে, তারা ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে থেকে ছাত্রসমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। তাদের মতে, ডাকসুর অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন