সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিল

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশের ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর জন্য ঋণ পুনঃতফসিলে ব্যাপক ঝুঁকি নিচ্ছে। সরকারি ছাড়ের সুযোগ নিয়ে গত বছর ব্যাংকগুলো রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৪’ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট ৮৫ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে। এ নিয়ে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকায়, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

২০২২ সালে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের নেতৃত্বে নীতিমালায় বড় ধরনের শিথিলতা আনা হয়। আগে যেখানে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিতে হতো, এখন তা কমে আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশে নেমে এসেছে। নতুন নিয়মে খেলাপি ঋণ পরিশোধের জন্য ৫ থেকে ১৫ বছরের সময়, ১ শতাংশ এককালীন জমা এবং তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ডের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তবে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের বড় অংশ আবারও খেলাপি হওয়ার উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালের শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৩৮.৪২ শতাংশ অর্থাৎ এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা পুনরায় খেলাপি হয়েছে। এটি ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

বছরের হিসাব অনুযায়ী, শিল্পখাত সর্বোচ্চ পুনঃতফসিল ঋণ পেয়ে থাকে (২৮.২৪ শতাংশ), এরপরে রয়েছে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত (১৬.৮৫ শতাংশ), চলতি মূলধন (১১.৩১ শতাংশ) ও আমদানি খাত (১১.২১ শতাংশ)।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঋণ পুনঃতফসিলের নীতি ব্যর্থ হলে ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন