রাজধানীর বাজারে সবজির দাম যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। শুক্রবার সকালে রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৮০ টাকার নিচে কোনো উল্লেখযোগ্য সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি সাধারণ গ্রীষ্মকালীন সবজিও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার কাছাকাছি দামে।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে গেলে মনে হচ্ছে প্রতিটি বিক্রেতার মুখে যেন একই ‘দাম তালিকা’ মুখস্থ—সবই শতকের ঘরে। “শেষ কবে ৫০-৬০ টাকায় সবজি কিনেছি, মনে নেই,” — মন্তব্য করেন রামপুরা বাজারে আসা ক্রেতা আলামিন।
সীমিত আয়ের মানুষজন বলছেন, মাসের শুরুতেই বাজেট গড়বড় হয়ে যাচ্ছে। মুনি আক্তার, যিনি একজন গৃহিণী, বলেন, “সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন রান্নার পরিমাণও কমাতে হচ্ছে। কোনোভাবে টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।”
বাজারে এখন যেসব সবজি পাওয়া যাচ্ছে, তার অধিকাংশই ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে:
-
ঢ্যাঁড়স, পটোল: ৮০–১০০ টাকা
-
বরবটি, বেগুন, চিচিঙ্গা, ধুন্দল: ১০০–১২০ টাকা
-
কাঁচামরিচ: ২০০–৩২০ টাকা (বাজারভেদে)
-
লাউ: প্রতি পিস ১০০ টাকা
-
চালকুমড়া: প্রতি পিস ৭০ টাকা
-
মিষ্টিকুমড়ার ফালি: প্রতি কেজি ৪০ টাকা
শুধুমাত্র আলু, কাঁচা পেঁপে ও বই কচু তুলনামূলক সস্তা—৭০–৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিমের দামেও লেগেছে উর্ধ্বগতি। বাজারে এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০–১৫৫ টাকা। এক মাস আগেও যা ছিল ১২০–১২৫ টাকায়।
পাড়ার মুদি দোকানগুলোতে প্রতি হালি ডিম ৫০–৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা বুলু মিয়া জানান, “সবজির দাম বাড়লে ডিমের চাহিদা বেড়ে যায়। সঙ্গে রয়েছে টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ বিঘ্ন।”
মাংসেও ঊর্ধ্বগতি
-
ব্রয়লার মুরগি: প্রতি কেজি ১৭০–১৮৫ টাকা (১০–২০ টাকা বেড়েছে)
-
সোনালি মুরগি: ৩০০–৩২০ টাকা কেজি
বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমি কারণে সবজি উৎপাদন কম। তার ওপর অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সরবরাহ চেইনে ভেঙে পড়েছে ভারসাম্য।
সবুজ হোসেন নামে একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, “এখন সবজি উৎপাদনের সময় না। তার ওপর বৃষ্টিতে অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আমরা কম দামে কিনতেই পারছি না।”

