সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রপ্তানি আয়ে ৭০% আসছে ১০টি দেশ থেকে: বাজার বৈচিত্র্যের অভাবে উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের রপ্তানি খাত এখনো প্রধানত কিছু নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে মাত্র ১০টি দেশ থেকে। এই প্রবণতা বাজার বৈচিত্র্যহীনতার প্রতিফলন এবং তা রপ্তানি খাতকে একটি বড় ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো একটি বা দুটি দেশের ওপর অতিনির্ভরতা একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি। কূটনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক মন্দা, কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ— যেকোনো ঘটনাই রপ্তানিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে রপ্তানি হয়েছে ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য— মোট রপ্তানির প্রায় ১৮%। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে ওভেন গার্মেন্টস (শার্ট, প্যান্ট) এবং নিট পোশাক (গেঞ্জি, সোয়েটার)।

জার্মানিতে রপ্তানি হয়েছে ৫২৯ কোটি ডলার, যেখানে নিট পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আর যুক্তরাজ্যতে রপ্তানির পরিমাণ ৪৬২ কোটি ডলার— ব্রেক্সিটের পরও বাংলাদেশের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে আছে।

শীর্ষ ১০ রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে ৭টিই ইউরোপীয় দেশ— যেমন: স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, বেলজিয়াম। এর বাইরে আছে কানাডা ও জাপান।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে নির্দিষ্ট কিছু ক্রেতা ও ব্র্যান্ডের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক থাকায় তারা অন্য বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী নন। বিজিএমইএর এক সাবেক সভাপতির কারখানা প্রায় ৫০ বছর ধরে শুধু একটি ব্রিটিশ ব্র্যান্ডকে সরবরাহ করে আসছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউর কোনো দেশে হঠাৎ করে শুল্ক বৃদ্ধি, নিষেধাজ্ঞা, বা ভোগক্ষমতা হ্রাস ঘটে— তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
করোনার সময় যেমন ইউরোপ-আমেরিকায় ভোগক্ষমতা কমে গিয়েছিল, তেমনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কনীতি পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউটের একজন বিশ্লেষক জানান:

“পণ্য বৈচিত্র্যের পাশাপাশি বাজার বৈচিত্র্য আনতে হবে। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য— এসব নতুন উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের বড় সুযোগ আছে। এক জায়গায় আটকে থাকলে সামনে বড় বিপদ আসতে পারে।”

সব গন্তব্য দেশেই তৈরি পোশাকই প্রধান রপ্তানি পণ্য। নিটওয়্যার ও ওভেন মিলিয়ে পোশাকখাত রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ দখল করে আছে। অন্যান্য পণ্য হিসেবে রয়েছে হোমটেক্সটাইল, পাদুকা, চামড়াজাত পণ্য, এবং সামান্য পরিমাণে বাইসাইকেল ও পাটজাত পণ্য।

বছরের পর বছর ধরে বাজার বৈচিত্র্যের কথা বলা হলেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশকে সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। এখনই না জাগলে ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন