পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বাংলাভাষীদের প্রতি বৈষম্য এবং অসম্মানজনক আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। শুক্রবার (২২ আগস্ট) সল্টলেকে তার নামাঙ্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বাংলায় কথা বললেই যদি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ফরাসি বললে কি ফ্রান্সে পাঠানো হবে?”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বারবার অভিযোগ করে আসছেন— বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষী ও বাঙালিদের প্রতি নিপীড়ন বাড়ছে। সেই প্রসঙ্গেই অমর্ত্য সেনের এই বক্তব্যকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন, “যে–ই হোক না কেন— পাঞ্জাবি, তামিল, বাঙালি— প্রত্যেকের সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে। ভারতীয় সমাজে এই বহুত্ববাদ ভুলে গেলে চলবে না।”
তিনি বলেন, “কোনো সম্প্রদায়ের সম্মান ক্ষুণ্ন হলে প্রতিবাদ করা জরুরি। তবে সেই প্রতিবাদ যেন সহিংস বা অন্য কারও ক্ষতির কারণ না হয়।”
অমর্ত্য সেন বলেন, “আমি কখনোই বলি না বাঙালিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু বাংলা ভাষা ও সভ্যতার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে হবে। বাংলার প্রতি সম্মান থাকাটা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “ভুল সংশোধনের নামে যদি আরও সাতটা ভুল হয়, তাহলে সেটা সমর্থনযোগ্য নয়। বহু মানুষ ডকুমেন্ট ছাড়া আছেন— সেটা মাথায় রেখে নীতি নির্ধারণ করতে হবে।”
মজার ছলেই তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পাঠালে আমার তেমন আপত্তি নেই, কারণ আমার আদি বাড়ি ঢাকায়।”
অনুষ্ঠানে তার ভাই ক্ষিতিমোহন সেনের লেখা ‘ভারতে হিন্দু-মুসলমানের যুক্ত সাধনা’ বইটির পুনঃপ্রকাশ করা হয়। এ সময় অমর্ত্য সেন বলেন, “ধর্ম, জাতি বা বর্ণ নির্বিশেষে সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকা উচিত। বাংলার বাইরে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার বা বাংলাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ হিসেবে অপমান করা চলবে না।”
সল্টলেকের এই আয়োজনে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সরাসরি প্রশ্ন করেন অমর্ত্য সেনকে, এবং তিনি অকপটে জবাব দেন নানা সামাজিক ও নীতিগত বিষয়ে।

