পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন শিকদারকে ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। একই সঙ্গে জামায়াতের রোকন সদস্য হিসেবেও তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বার কাউন্সিল সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিচারক নীলুফার শিরিনের বাসভবনে সরাসরি ৫০ হাজার টাকার খাম পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বিচারক উল্লেখ করেন, ঘুষের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার জামিন আবেদন সংক্রান্ত কাগজপত্রও ছিল। এমন ঘটনায় নিজেকে “অপমানিত” ও “চাপে পড়া” বোধ করে বার কাউন্সিল বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। বিচারক আরও জানান, এর আগেও একই মামলার এক আসামির জামিন বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েছিলেন রুহুল আমিন। এছাড়া আলোচিত ‘জুলাই শহীদ জসিম কন্যা ধর্ষণ মামলা’সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ ওঠার পরপরই জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভায় রুহুল আমিনের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। একইসঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীও তাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এক বিবৃতিতে দলটি জানিয়েছে, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

