জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক নেত্রী রুমিন ফারহানাকে নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “রুমিন ফারহানা বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি শেখ হাসিনার কাছে ফ্ল্যাট চেয়েছিলেন, তার সরকার পতনের পরও তার প্রতি এক ধরনের আনুগত্য রয়েছে বলে মনে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে সহিংসতা করলে তাকে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
এই বক্তব্যের পরপরই বিএনপির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলটির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রুমিন ফারহানার মতো একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর বিরুদ্ধে এমন ভাষা ব্যবহার রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী। এটি ব্যক্তিগত আক্রমণ, যা একজন গণতান্ত্রিক দলের নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় সংলাপ ও সহনশীল রাজনীতির আবহ গড়ে তোলার এই সময়ে নেতাদের এমন মন্তব্য রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্লেষক ড. মাহমুদুর রশিদ বলেন, “এ ধরনের বক্তৃতা কেবল ব্যক্তি নয়, গোটা রাজনৈতিক পরিবেশকেই কলুষিত করে।”
ওই দিন নির্বাচন কমিশন ভবনেও বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এনসিপি এবং বিএনপি নেতাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি নেতা হাসনাত। তিনি বলেন, “পুলিশ যেন কোনো দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ না করে, বরং জনগণের পাশে থাকে।”
একই দিনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর ও বাংলাদেশ-পাকিস্তান চুক্তির পর এই ধরনের মন্তব্য কিছুটা নেপথ্যে গেলেও, রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থামেনি। রুমিন ফারহানার পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া না এলেও, বিএনপির নেতারা বিষয়টি দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করছেন বলে জানা গেছে।

