প্রায় চার দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর সেবায় মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গড়ে ৪১ শতাংশ হারে বাড়ানো এ মাশুল নিয়ে ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক মহলে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। আপত্তির মুখে বিষয়টি আবারও পর্যালোচনার জন্য আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) বৈঠকে বসছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত হার অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মাশুল বাড়ানো হচ্ছে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে। এতে প্রতি ২০ ফুট কনটেইনারে গড়ে অতিরিক্ত ৪,৩৯৫ টাকা মাশুল দিতে হবে। অর্থাৎ আমদানিতে মাশুল বেড়ে হবে প্রায় ৫,৭২০ টাকা এবং রপ্তানিতে বাড়বে ৩,০৪৫ টাকা।
সব মিলিয়ে একেকটি কনটেইনারে গড় মাশুল দাঁড়াবে প্রায় ১৬,২৪৩ টাকা।
সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন মাশুল অনুমোদন দিলেও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে গেজেট আকারে প্রকাশের আগেই বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়। ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তির কারণে এখন বিষয়টি নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বিজিএমইএ পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বলেন, “রপ্তানিকারকরা এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপের মুখে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে। এর মধ্যে আবার ৪১ শতাংশ হারে বন্দরের মাশুল বাড়ানো হলে আমাদের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দ্বিগুণ মাশুল দেই— একবার কাঁচামাল আমদানিতে, আবার রপ্তানির সময়। এই অবস্থায় অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কঠিন।”
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আজ অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বন্দর কর্তৃপক্ষ, আমদানি-রপ্তানিকারক ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক নিশ্চিত করেছেন, বৈঠকে অংশ নিতে বন্দর চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, মাশুল বাড়ানোর পরেও বাংলাদেশে বন্দর সেবা এখনও ভারতের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী থাকবে।

