সম্প্রতি বাংলাদেশের সফরে আসা পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দাবি করেছেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন অমীমাংসিত ইস্যুগুলো—গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়া, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং আটকে থাকা নাগরিকদের প্রত্যাবাসন—দুই দফায় সমাধান হয়ে গেছে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে অতীত ভুলে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা এক পরিবার।”
তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই দাবির সাথে একমত নন। তিনি বলেন, “সমস্যাগুলো এখনো সমাধান হয়নি। বাংলাদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে—পাকিস্তানের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাই এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য বণ্টন চাই।”
১৯৭৪ সালের সিমলা চুক্তি এবং ২০০০ সালের পারভেজ মোশাররফের বাংলাদেশ সফরের সময় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কিছু দুঃখ প্রকাশ করা হলেও, মুক্তিযুদ্ধের জন্য ‘পূর্ণ ক্ষমা’ ও সম্পদের সুষ্ঠু ভাগ নিয়ে আজও আনুষ্ঠানিক সম্মতি হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সমস্যা শুধুমাত্র কূটনৈতিক ঐতিহ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও সম্পর্কের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঠিক ইতিহাসের শিক্ষা এবং দুই দেশের মধ্যে সংলাপ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে ঐক্যের পথ সুগম হয়।

