জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে নতুন এক নজির সৃষ্টি করতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া। একই দিনে বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কের মূল দিনে এই তিন রাষ্ট্রপ্রধানের ভাষণ নির্ধারিত হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জাতিসংঘ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সকালের সেশনে বক্তব্য রাখবেন। তার ঠিক পরেই বিকেলে মঞ্চে উঠবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। দুই দেশের মধ্যে চলমান কাশ্মির ইস্যু ও সীমান্ত উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বক্তৃতাগুলোর মধ্যে পরোক্ষভাবে পাল্টা মন্তব্যের সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ এশীয় নীতিনির্ধারকরা বলছেন, “এটি হতে পারে একটি কূটনৈতিক কৌশল, যেখানে পাকিস্তান সরাসরি ভারতীয় অবস্থানের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে। কাশ্মির থেকে শুরু করে মানবাধিকার ইস্যুতে দিল্লি-ইসলামাবাদ তর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে মঞ্চেই।”
এদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক ভাষণে অংশ নিচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার ভাষণে বাংলাদেশের শান্তি প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতি তুলে ধরার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, “আমরা চাই বিশ্ববাসী জানুক, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। ইউনূস নোবেল জয়ী হিসেবে বৈশ্বিক শান্তি ও মানবাধিকার ইস্যুতে শক্ত বার্তা দেবেন।”
জাতিসংঘের এ বছরের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য— “একসাথে ভালো: শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের পথে ৮০ বছর ও আরও বেশি”। প্রতিপাদ্যটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা পরিস্থিতি ও ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাত বিশ্বকে নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “আঞ্চলিক শক্তিগুলোর একই দিনে বিশ্বমঞ্চে উপস্থিতি এই অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটিই হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার অন্যতম সুযোগ।”

