রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা আর সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “এখন সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ও কার্যকর হস্তক্ষেপের।” সোমবার কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।
‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কনফারেন্সের প্রস্তুতি’ শীর্ষক এই সম্মেলনে ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ মানবিক কারণে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছরেও প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় বোঝা এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং স্থানীয় জনগণের ওপর প্রভাব—সব মিলিয়ে এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জরুরি হয়ে উঠেছে।”
ড. ইউনূস সাত দফা সুপারিশ পেশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে—রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, প্রত্যাবাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে আস্থা পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সম্মেলনকে ‘উচ্চপর্যায়ের লবি প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মেলনের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলন রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ফেরানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

