রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাধর মহলের চাপে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা সমালোচনার প্রেক্ষিতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে মতামত চেয়ে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে— গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে অনেক প্রয়োজনীয় স্থানও কেন্দ্র হিসেবে উপেক্ষিত ছিল। ফলে পরীক্ষার্থীরা যেমন দুর্ভোগে পড়েছে, তেমনি পরীক্ষা পরিচালনায় দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।
কীভাবে হবে কেন্দ্র পুনঃনির্ধারণ
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
-
ভালো যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা প্রাচীর, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও বিজ্ঞানাগার/কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে— এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
-
শিক্ষার্থী অনুপাতে কেন্দ্র নির্ধারণ করতে হবে।
-
কোনো অবস্থাতেই ভেন্যু কেন্দ্র (অস্থায়ী উপকেন্দ্র) করা যাবে না।
-
কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ওই কেন্দ্রেই পরীক্ষা দিতে পারবে না— নিশ্চিত করতে হবে স্বচ্ছতা।
-
প্রতিষ্ঠানকে বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
চিঠিটি ঢাকা বিভাগের ১৪টি জেলার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। জেলার তালিকায় রয়েছে:
ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ।
বোর্ড জানিয়েছে, বিষয়টি ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর কেন্দ্র চূড়ান্ত করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম রোধে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

