বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে দলীয় সব পর্যায়ের পদ থেকে তিন মাসের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ আগস্ট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে “দলীয় নীতিমালা পরিপন্থী বক্তব্য” দেওয়ার অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি লিখিত জবাব না দিয়ে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। পরে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হলেও চূড়ান্ত জবাব দলকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি বলে জানা গেছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনার অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে আপাতত তিন মাসের জন্য আপনার দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হলো।”
সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো টকশো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার সময় যেন দেশের মর্যাদা, দলের নীতিমালা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত না লাগে, সে বিষয়ে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে।
সম্প্রতি জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বিষয়গুলো ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থেই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল।
এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত ফজলুর রহমানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তাকে ‘মব জাস্টিস’-এর হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে এবং দলের ভেতর থেকে একটি গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

