জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানকে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন— “বক্তব্যে যদি ভুল থাকে, প্রমাণিত হলে দুঃখ প্রকাশ করবো”।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে লেখা এক লিখিত চিঠিতে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য কখনোই কুরুচিপূর্ণ ছিল না বরং ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা ও জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে’ প্রতিবাদ হিসেবে তা তুলে ধরেছেন।
শোকজের জবাবে ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ছিল মূলত বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলন, কিন্তু জামায়াত-শিবির পরবর্তীতে তা নিজেদের আন্দোলন বলে দাবি করে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। তিনি বলেন, “জামায়াত-শিবিরের দাবি ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া, যা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”
নিজের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি একজন ধর্মবিশ্বাসী মুসলমান, কখনোই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করিনি। তবে ধর্মের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অতীতেও কথা বলেছি, ভবিষ্যতেও বলবো।” পাশাপাশি তিনি বলেন, তার কোনো বক্তব্য যদি প্রমাণিতভাবে দলের ক্ষতি করে, তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করতে প্রস্তুত।
একাধিক পয়েন্টে লেখা ওই জবাবে ফজলুর রহমান দাবি করেন, গত ১৫ বছরের আন্দোলনের বীজ, চারা ও ফসলের সবই বিএনপি তৈরি করেছে, কিন্তু চূড়ান্ত সময়ে আন্দোলনের ফসল কুড়িয়ে নিচ্ছে অন্য রাজনৈতিক শক্তি, যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আদর্শ বহন করে। এই পরিস্থিতিতে তিনি মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান।
সবশেষে তিনি বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আমি সুবিচার পাবো এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থাকবো।”

