সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ বৈশ্বিক কূটনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক। জার্মান সংবাদমাধ্যম ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালজেমেইন জেইতুং (FAZ) এবং জাপানের নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চারটি ফোন কল উপেক্ষা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রতিবেদনগুলো বলছে, মোদির এমন সিদ্ধান্ত তার ভেতরে জমে থাকা অসন্তোষ এবং কূটনৈতিকভাবে আরও সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ, বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনায় অতিরিক্ত কর চাপানো, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যে শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা অনেকের মতে, কোনো মিত্র দেশের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন। রাশিয়ান ক্রুড অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর আরোপও ভারতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কৃষকদের স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করবে না ভারত।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তার মধ্যস্থতায় এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। তবে ভারত এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে দেশটির জনগণ ও সরকারের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে FAZ।
নিউইয়র্কের ‘দ্য নিউ স্কুল’-এর ইন্ডিয়া-চায়না ইনস্টিটিউটের সহ-পরিচালক মার্ক ফ্রেজিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতের ওপর নির্ভরতা হয়তো কমে আসছে। তার মতে, ভারত কখনোই স্পষ্টভাবে বেইজিংবিরোধী অবস্থানে যাওয়া পরিকল্পনা করেনি। বরং চীন ও ভারতের মাঝে কিছু অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে।
আগস্টের শেষ দিকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এটিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি কৌশলিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

