বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে দ্রুত সমাধানের ইঙ্গিত দিলেন সিনিয়র সচিব

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সরকারি চাকরিতে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির বিষয়ে আলোচনায় বসলে দ্রুত সমাধান সম্ভব বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান। তিনি বলেন, “তাদের দাবিগুলো যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়, সচিব কমিটি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”

বুধবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগের দিন (২৬ আগস্ট) বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় আজও ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা শাহবাগে অবস্থান নেন।

সিনিয়র সচিব বলেন, “আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত প্রস্তাব আসেনি। তবে তারা যদি আইন-কানুন ও যুক্তিসহ দাবি তুলে ধরে, তাহলে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে সমাধান করা যাবে। এটি কোনো জটিল বিষয় নয়, এক-দুইটি সভাতেই সমাধান সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “যে যার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠালে, আমরা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবো। ফেলে রাখবো না।”

প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে মোখলেস উর রহমান মন্তব্য করেন, “সরকারি সুযোগ-সুবিধা যারা বেশি পান, তাদের থেকেই অধিক প্রত্যাশা থাকে। শিক্ষার্থীরা যে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, তা খতিয়ে দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শাহবাগ অবরোধ নিয়ে জনভোগান্তির বিষয়ে প্রশ্নে সিনিয়র সচিব বলেন, “এই দেশে শুধু ছাত্ররা না, আমরা অফিসাররাও বহুবার রাস্তাঘাট বন্ধ করেছি। জনসাধারণের কষ্টের দায় একপাক্ষিকভাবে চাপানো ঠিক নয়। তবে এভাবে রাস্তা বন্ধ করে দাবি আদায় করার প্রয়োজন নেই।”

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে:

  1. সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে নিয়োগে বাধ্যতামূলকভাবে BSc ডিগ্রি এবং পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। কোটাভিত্তিক বা সমমানের নামে পদোন্নতি নয়।

  2. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা BSc ও ডিপ্লোমাধারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

  3. ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে BSc ডিগ্রি না থাকলেও ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, “দাবিগুলো দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকার আমাদের বাধ্য করেছে রাস্তায় নামতে।”

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই জাতীয় গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসায় সংকট সমাধানের পথ সুগম হতে পারে—তবে তা নির্ভর করছে কত দ্রুত এবং আন্তরিকভাবে প্রক্রিয়া শুরু হয় তার ওপর।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন