বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সুন্দরগঞ্জে স্কুলে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির দলীয় কর্মসূচি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি চলে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিষয়টি ঘিরে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিএনপি তাদের কর্মসূচি চালায়, সেগুলো হলো:

  1. শিবরাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ (সোনারায় ইউনিয়ন)

  2. ধুপনী স্কুল (কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন)

  3. হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (চন্ডিপুর ইউনিয়ন)

  4. রামভদ্র কেজি স্কুল (সর্বন্দ ইউনিয়ন)

  5. বজরা হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন)

  6. খুদিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (শান্তিরাম ইউনিয়ন)

স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ স্কুলে কোনো শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান হয়নি। শিক্ষার্থীরা এসে ফিরে যায়, কেউ কেউ স্কুলে প্রবেশও করতে পারেনি। মাঠজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের জটলা, মাইকিং ও রাজনৈতিক স্লোগানে ছিল বিশৃঙ্খল পরিবেশ।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামদেব খবির উদ্দিন কলেজের কর্মসূচির স্থান বদল করে কালীতলা বাজারে নিয়ে যাওয়া হলেও অধিকাংশ ইউনিয়নে স্কুলগুলোতেই দলীয় কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মঙ্গলবারও উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুলে একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজকুমার বিশ্বাস বলেন,

“স্কুল বন্ধ রেখে দলীয় কোনো কর্মসূচির সুযোগ নেই। বিষয়টি আগে জানলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এখন তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ. এম. মাহবুবুল ইসলাম বলেন,

“এমন কোনো অনুমতি কিংবা আবেদন আমাদের কাছে আসেনি। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানো সম্পূর্ণ অনৈতিক। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—দলীয় রাজনীতির জন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন কেন ব্যাহত হবে?

তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি নেতারা।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিকের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সুন্দরগঞ্জের এক অভিভাবক বলেন,

“শিশুদের শিক্ষার জায়গায় যদি দলীয় কর্মসূচি চলে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কী অবস্থা হবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন