জাতীয় প্রেসক্লাবের আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, “ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবেই, কেউ তা ঠেকাতে পারবে না।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—কে সেই ষড়যন্ত্রী? কাদের প্রতি এই সতর্ক বার্তা? আর বাস্তবেই কি ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে, গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে?
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দলটি এখনো তাদের নির্বাচনী অবস্থান স্পষ্ট করেনি। কিন্তু ফারুকের বক্তব্য থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, বিএনপি ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে ক্ষেত্রেই এই বক্তব্য কি নির্বাচনী কৌশলের অংশ? নাকি সরকারের প্রতি ‘স্মারক’ বার্তা?
ফারুক অভিযোগ করেছেন, “ফ্যাসিবাদের দোসররা” দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে “ষড়যন্ত্র” শব্দটি যতটা উচ্চারিত হয়, তার প্রমাণ সাধারণত পাওয়া যায় না।
আর যদি সত্যিই এমন কোনো মহল নির্বাচন প্রতিহত করতে চায়, তার বাস্তবিক পরিচয় বা প্রমাণ কী? এই প্রশ্নের উত্তর আজও অনুপস্থিত
বিএনপির নেতারা সেদিন একাধিকবার ‘গণতন্ত্র’, ‘ভোটাধিকার’ এবং ‘বাকস্বাধীনতা’ ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল শব্দ প্রয়োগ নয়—জনগণ এখন স্পষ্ট রূপরেখা ও পরিকল্পনা দেখতে চায়। কেমন হবে বিএনপির অংশগ্রহণ? কেমন হবে তাদের অবস্থান নির্বাচন কমিশন নিয়ে?
যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের বক্তব্যে উঠে আসে ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই এ অপশক্তি গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করছে।”
অনেকেই বলছেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের ভুল-ত্রুটি নিয়ে বর্তমান রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করা এক ধরনের রাজনৈতিক চাতুরতা, যা বাস্তব সংকট থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে সাহায্য করে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা শহীদ জিয়ার “স্বনির্ভর বাংলাদেশ” ভাবনার কথা বললেও, বাস্তবে বিএনপি বর্তমান সময়ে কী ধরনের রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে এগোচ্ছে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো দিকনির্দেশনা দেননি।

