ভারতের সঙ্গে নির্ধারিত সিরিজ রাজনৈতিক কারণে বাতিল হওয়ায় এশিয়া কাপের আগে প্রস্তুতি নিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বস্ত ‘সহযোগী’ জিম্বাবুয়ের দিকেই হাত বাড়ানো হয়। কিন্তু এবার তাদেরও ব্যস্ত সূচি রয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প খুঁজতে গিয়ে ইউরোপের দল নেদারল্যান্ডসকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানায় বিসিবি। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে আজ সন্ধ্যা ৬টায়।
টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে এশিয়া কাপ হবে লিটন দাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এ সিরিজ তার জন্যও হতে পারে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দলের ব্যাটিং, বোলিং ও কম্বিনেশন পরীক্ষা করে দেখার জন্য এ সিরিজকেই প্রস্তুতির আদর্শ মঞ্চ হিসেবে দেখছে ম্যানেজমেন্ট।
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য সিরিজকে শুধুই প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন না। তিনি বলেছেন, “আমরা সিরিজ বাই সিরিজ পরিকল্পনা করি। নেদারল্যান্ডস একটি আন্তর্জাতিক দল, তাদের বিপক্ষে সিরিজকে আমরা পূর্ণ গুরুত্ব দিচ্ছি। শ্রীলঙ্কায় সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছি।”
নেদারল্যান্ডস দলও সিরিজটি নিয়ে যথেষ্ট সিরিয়াস। অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশ সফরে এসেছে জয় ছিনিয়ে নিতে। বাংলাদেশকে হারানোই তাদের মূল লক্ষ্য।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হয়েছে মোট ৫ বার। এর মধ্যে ৪ বার জয় এসেছে বাংলাদেশের ঘরে, মাত্র ১ বার জয়ী হয়েছে ডাচরা। যদিও জয়গুলোর ব্যবধান খুব বেশি বড় নয়—যেমন ৮ রানে, ৯ রানে কিংবা ২৫ রানে। একমাত্র বড় জয়টি এসেছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে।
প্রস্তুতির ম্যাচ হিসেবে শুরু হলেও, নেদারল্যান্ডসের লড়াকু মানসিকতা এই সিরিজকে জটিল করে তুলতে পারে বাংলাদেশের জন্য। পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকলেও, মাঠের পারফরম্যান্সেই প্রমাণ দিতে হবে লিটনদের।

