বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সরকার পতনে হাসিনার তিন মন্ত্রীকে ব্যবহার করেছিল মার্কিন প্রশাসন

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ ইনডিয়ার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিনের অজানা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা হারানোর আগেই মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ তিন শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রভাবিত করে সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করানোর পরিকল্পনা করেছিল।

তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন: শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের গভীর যোগাযোগের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের দুর্বলতা সৃষ্টি হয় এবং সরকার পতনের পথ প্রশস্ত হয়।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শেখ হাসিনা নিজেও এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন না থাকলেও পরবর্তীতে বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন এবং অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নর্থইস্ট নিউজের সূত্র অনুযায়ী, ওই তিন নেতা দীর্ঘদিন মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সরকারের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতেন।

একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্টে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই ষড়যন্ত্রের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের শেষে শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এই ষড়যন্ত্রের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ওই সময় শেখ হাসিনা দলের উচ্চ নেতাদের কাছে ছয়টি জটিল সমস্যা তুলে ধরেন, যা মূলত মার্কিন চাপের প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছিল। আর সেই পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে বিভক্তি ও দ্বিধা লক্ষ্য করা যায়।

একজন শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘দরবেশ’ উপনামধারী সালমান এফ রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র যোগাযোগের মাধ্যমে দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন। এক পর্যায়ে তিনি দলের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে নাকি নিজস্ব রাজনীতি চালিয়েছেন।

তবে সবচেয়ে আলোচনীয় দিক হলো, ওই সময়ের শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং তাতে সরকারের জবাব দিতে ব্যর্থতার পেছনে এই তিন নেতার ভূমিকা। আন্দোলনের উত্তাপ বৃদ্ধির সময় এক বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়, যা শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ক্ষোভ বাড়ায় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করে।

একই সাথে উঠে এসেছে, শেখ হাসিনার চীন সফরেও বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি, যা দলের অভ্যন্তরে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়, ওই সফর কৌশলগতভাবে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ছিল, যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছিল।

শেখ হাসিনার ক্ষমতা হস্তান্তরের এক বছর পর, কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ক্ষুব্ধ এবং দলীয় সমালোচনা প্রকাশে অনীহা ও ভয়ের পরিবেশ কেমন ছিল, সে কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

এই তথ্যগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাবের ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তোলেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই রহস্যজনক ঘটনার পুরো চিত্র কীভাবে বিকাশ পাবে, তা সামনে সময় বলবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন