জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে বিএনপি কেবল সরকার নয়, গোটা শাসনব্যবস্থার আমূল সংস্কার করবে।”
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা ৩১ দফা রূপরেখার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, অংশগ্রহণমূলক ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে নতুন ধারায়।”
গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে বিএনপির আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে হাজারো মামলা, গুম, হত্যা চালানো হয়েছে। ২০ হাজার নেতাকর্মী নিহত, ১৭০০ জন গুম এবং ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবু বিএনপি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ফিনিক্স পাখির মতো পুনর্জাগরণ হয়েছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ নিয়ে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে।”
আগামী ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশ আজ নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। আমরা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন দেখেছি। এখন সময় এসেছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের। এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি জানান, “সংস্কার কমিশনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি এবং বিএনপি যথাসাধ্য সহযোগিতা করেছে।”
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবর্তক। তার সময়েই পোশাক খাত রপ্তানি শিল্পে পরিণত হয়। আর খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি পুনঃস্থাপন করেন।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাইফুল আলম নীরবসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

