চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের চবি শাখা। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল রাখাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবির চবি শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, “শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়েছে। অথচ প্রশাসন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী নিষ্ক্রিয় ছিল।”
শিবিরের চার দফা দাবি
১. আহত শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা
প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে হবে।
-
সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও এলাকা অস্ত্রমুক্ত ঘোষণা
যাঁরা হামলায় জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে পুরো এলাকা সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে। -
ক্যাম্পাসে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন পুনরায় অনিরাপদ না হয়, সে জন্য কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। -
১৪৪ ধারা জারি রাখা
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর রাখার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে শিবির নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি হাটহাজারী থানা পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, “ছাত্রদের বারবার ফোন করার পরও পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থলে যায়নি। এটা দায়িত্বহীনতার চূড়ান্ত উদাহরণ।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ইব্রাহিম হোসেন রনি, চবি শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজসহ অন্যান্য নেতারা।
গত শনিবার রাতে চবি সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় কিছু যুবক হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। রোববার দিনভর পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরে ১৪৪ ধারা জারি করে।

