বিগত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি দমন-পীড়নের ঘটনায় অসংখ্য হতাহতের দায় স্বীকার করেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
“এত বড় মানবিক বিপর্যয় আমার দায়িত্ব পালনের সময়েই ঘটেছে। আমি এর জন্য অনুতপ্ত, লজ্জিত এবং দায় স্বীকার করছি,”—বলেন মামুন। তিনি আরও বলেন, “নিহত ও আহতদের পরিবারসহ গোটা দেশবাসীর কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামুনের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সকালে কারাগার থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বেলা ১টার বিরতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও বিকেলে তা আবারও শুরু হবে।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু শিক্ষার্থী নিহত ও শতাধিক আহত হয়। সেই ঘটনার তদন্তে অভিযুক্ত হয় একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন প্রথমবারের মতো রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে মুখ খুললেন।

