২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।
তবে, আগস্ট মাসে রপ্তানির গতি কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। মাসটিতে রপ্তানি আয় কমে ৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ হ্রাস। এ সময় তৈরি পোশাক খাতেও দেখা গেছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি, যা নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জুলাই-আগস্টের চিত্র: স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি
প্রথম দুই মাসের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ভালো করেছে।
জুলাই-আগস্ট ২০২৫:
-
মোট রপ্তানি: ৮.৬৯ বিলিয়ন ডলার
-
প্রবৃদ্ধি: +১০.৬১% (২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায়)
বিশেষ করে জুলাই মাসে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ছিল প্রশংসনীয়।
জুলাই ২০২৫:
-
-
মোট পোশাক রপ্তানি: ৭.১৩ বিলিয়ন ডলার
-
নিট পোশাক: ৩.৯৫ বিলিয়ন ডলার (+৯.১১%)
-
ওভেন পোশাক: ৩.১৮ বিলিয়ন ডলার (+১০.২৮%)
-
-
আগস্টে ধীর গতি, পোশাকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি
তবে আগস্ট মাসে চিত্র বদলে যায়।
-
মোট রপ্তানি আয়: ৩.৯২ বিলিয়ন ডলার
-
২০২৪ সালের আগস্টে ছিল: ৪.০৩ বিলিয়ন ডলার
-
প্রবৃদ্ধি: -২.৯৩%
শুধু তৈরি পোশাক খাতে:
-
মোট আয়: ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার
-
নিট পোশাক: ১.৭৭ বিলিয়ন ডলার (-৬.৩৪%)
-
ওভেন পোশাক: ১.৪০ বিলিয়ন ডলার (-২.৬৫%)
-
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন,
“অর্থবছরের শুরুটা আশাব্যঞ্জক হলেও আগস্টের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা হ্রাস, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মুদ্রার ওঠানামার ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
তাদের মতে, তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বাজার বৈচিত্র্যহীনতা এবং যোগান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এ ধরনের ধাক্কার অন্যতম কারণ।

