বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

যারা নির্বাচনে যেতে চায় না তারা শেষ পর্যন্ত বাধা দেবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাতটি রাজনৈতিক দলের বৈঠকের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলমান সংকটে নির্বাচনের পথে হাঁটতে চাওয়া দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এই আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকার ও কিছু রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব, সমন্বয়হীনতা এবং ‘অদৃশ্য সরকারের’ অস্তিত্বের মতো গুরুতর প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া গণ-অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের বক্তব্য সংবাদটির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক। তিনি সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ‘অদৃশ্য সরকারের’ অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাইরে আরেকটি পক্ষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর পাশাপাশি তিনি আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন যে, ভারত এবং কিছু গোয়েন্দা সংস্থা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি, শেখ হাসিনাকে আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রের অংশ—এমন অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনের কথায় সরকারের সমন্বয়হীনতা ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাকে তারা ‘ভীতিকর’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার বিষয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই নেতারা মনে করেন, সরকারের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তার অভাব নির্বাচনের শঙ্কা দূর করতে পারছে না।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গত ৫৩ বছরের নির্বাচনে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তাই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে গেলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তিনি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ নির্বাচন’ নামের একটি অভিনব প্রস্তাব দিয়েছেন, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনের পাশাপাশি সাংবিধানিক সংস্কারের অনুমোদন নিশ্চিত করা। এই প্রস্তাব প্রচলিত নির্বাচনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ ও শঙ্কার বিপরীতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যারা নির্বাচনে যেতে চায় না তারা শেষ পর্যন্ত বাধা দেবে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। । তবে তিনি সকল দলের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এই নির্বাচন হবে ভয় ও চাপমুক্ত। তিনি এই নির্বাচনকে ‘নিজ পায়ে দাঁড়ানোর’ এবং ‘অন্য কোনো দেশের থাবা’ মুক্ত একটি নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা বিদেশি হস্তক্ষেপের শঙ্কাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

সব মিলিয়ে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এই বৈঠকটি একদিকে যেমন বর্তমান সরকারের দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনি দেশের ভেতরে এবং বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের চাপের বাস্তবতাকে উন্মোচন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি-দাওয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার সতর্কবার্তা থেকে এটা স্পষ্ট যে, আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের এক কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন