সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন—এ খবর নিশ্চিত হওয়ার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর ও এর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন। এক মাস আগেই কক্সবাজারে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে তার ‘গোপন বৈঠক’-এর গুঞ্জন দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। যদিও সে সময় দাবি করা হয়, তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রেই। এবার আর গুঞ্জন নয়, সত্যিকারের উপস্থিতি নিয়েই ফিরে এসেছেন হাস।
আজ (বুধবার) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান পিটার হাস। জানা গেছে, তিনি মহেশখালী উপজেলার ৩০ শয্যাবিশিষ্ট Hope Excelerate Hospital পরিদর্শন করেন এবং একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে তার।
গত ৫ আগস্ট, এক বছরের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর বর্ষপূর্তিতে কক্সবাজারের একটি পাঁচতারকা হোটেলে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পিটার হাসের ‘গোপন বৈঠক’-এর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে অংশ নিয়েছেন বলে বলা হয় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাসনিম জারা। যদিও সেই সময় ওয়াশিংটন সূত্র নিশ্চিত করেছিল, পিটার হাস তখন যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছিলেন।
এবার সরাসরি কক্সবাজারে উপস্থিতির কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হাসের সফর। তার এলএনজি কোম্পানি Excelerate Energy কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনাল পরিচালনা করে। ধারণা করা হচ্ছে, কোম্পানির ব্যবসায়িক তৎপরতার অংশ হিসেবেই এই সফর হলেও, রাজনৈতিক পটভূমিতে তার বারবার বাংলাদেশ সফর অনেকের নজর কেড়েছে।
২০২২-২০২৪ সালে বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পিটার হাস ছিলেন নানা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে নির্বাচন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে তার ভূমিকা প্রশংসা ও সমালোচনা—দুটিই কুড়ায়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিস থেকে অবসর নিয়ে Excelerate Energy-তে যোগ দেন।
তাদের মতে, বাংলাদেশে তার অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জ্বালানি ও এলএনজি খাতে। সেই অনুযায়ী, হাসের উপস্থিতি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ এপ্রিলে ঢাকায় এসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেই সফরে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বারবার বাংলাদেশ সফর, বিশেষ করে কক্সবাজারে আসা ও এনসিপি সংশ্লিষ্ট নানা গুঞ্জনের মধ্যেও তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি এখন আর কোনো জল্পনার বিষয় নয়। তবে এটি নিছকই একটি ব্যবসায়িক সফর, নাকি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে—সে প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

