সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মাতারবাড়ী-মহেশখালী হয়ে উঠছে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক ইঞ্জিন: ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়ী। আধুনিক বন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল, উৎপাদনশিল্প ও মৎস্য খাতকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ‘মহেশখালী-মাতারবাড়ী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (MIDA)—যার মাধ্যমে আগামী তিন দশকে বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতির চেহারা।

জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, প্রকল্প এলাকায় ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৬০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হতে পারে। যার মধ্যে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার আসবে বেসরকারি খাত থেকে, এবং এর ১০ শতাংশ হবে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)। বিডা (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) আশা করছে, এই উন্নয়ন কর্মসূচি দেশের জিডিপিতে যোগ করতে পারে ১৫০ বিলিয়ন ডলার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে দেড় লাখ কর্মসংস্থান হবে সরাসরি, বিশেষ করে বন্দর, শিল্প, জ্বালানি এবং মৎস্য খাতে।

মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রাকৃতিকভাবে ১৮.৫ মিটার গভীর, যা বড় আকারের কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো জাহাজ সরাসরি নোঙর করতে সক্ষম। এতে দেশের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৪৫% এবং বাল্ক কার্গোর ২৫% পরিচালনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় কমায় ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম হ্রাস পাবে—যেমন এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমতে পারে প্রায় ৫০ টাকা।

এ অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠবে নতুন শিল্পাঞ্চল, যেখানে ইস্পাত, ইলেকট্রনিকস, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটোমোবাইলসহ অন্তত ৯টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন খাত থেকে বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব বলে জানিয়েছে বিডা।

প্রস্তাবিত একটি তেল পরিশোধনাগারের মাধ্যমে ৮-১০ এমটিপিএ ক্ষমতায় ৩০ শতাংশ জাতীয় চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, যা বছরে ৩.৪ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে। পাশাপাশি এই এলাকা হয়ে উঠবে জ্বালানি আমদানির কেন্দ্রবিন্দু।

বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র এখনও বাংলাদেশের জন্য বিশাল সম্ভাবনার খাত। টুনা মাছ ধরার অনুমোদন, লংলাইনার ফিশিং ভেসেল ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলে বাংলাদেশ এ খাত থেকে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক আয় করতে পারে। চিংড়ি ও স্ক্যালপ প্রক্রিয়াজাত করে ইউরোপ ও জাপানে রপ্তানির বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিডা জানিয়েছে, মিডা প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে—ইনকিউবেশন, এক্সপ্যানশন ও ডাইভারসিফিকেশন। চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত হবে ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ১২০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহেশখালী-মাতারবাড়ী অঞ্চল যদি সঠিকভাবে উন্নয়ন করা যায়, তাহলে এটি কেবল কক্সবাজার নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন