ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আজ শনিবার একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেমিনারের মূল লক্ষ্য হিসেবে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্য।
দিল্লিভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক ‘গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডিফেন্স নিউজ’ আয়োজিত এই সেমিনারের শিরোনাম ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব’। এতে ভারতের সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা ছাড়াও চারজন বাংলাদেশি ‘রিসোর্স পারসন’ অংশ নিচ্ছেন, যাদের রাজনৈতিক পরিচিতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান, লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. আবুল হাসনাত মিল্টন, সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ এবং আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, তারা ভারতের ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশের বিরোধী বক্তব্য তুলে ধরবেন।
রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দিল্লির এ অপতৎপরতাকে বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা আখ্যা দিয়ে বলছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে পতিত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পথ খুঁজছে ভারত। দিল্লি বারবার ঢাকাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়বে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য জরুরি।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “ভারত মূলত নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে বিভক্ত করতে চায়। তাদের এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের রাজনীতিতে বিদ্বেষ সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।”
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান বলেন, “এটি সেমিনার নয়, এটি ভারতের পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন। যদিও তারা বিভিন্ন রিসোর্স ব্যবহার করছে, তবুও এ ধরনের প্রচারণা বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি কোনো হুমকি সৃষ্টি করতে পারবে না।”
সেমিনারে আলোচনা করা হবে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, মৌলবাদের উত্থান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ভারতের ভূমিকা নিয়ে। ভারতের সামরিক ও বেসামরিক বিশ্লেষকরা বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় উপস্থাপন করবেন।
সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এই ধরনের চক্রান্ত মোকাবিলায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ও সচেতনতা অপরিহার্য।

