রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বেসরকারি মেডিকেলে শূন্য আসন পূরণ ও আন্দোলনে হামলার বিচারসহ চার দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শূন্য থাকা আসনগুলো দ্রুত পূরণ এবং আন্দোলনে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে চার দফা দাবি জানিয়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তারা এই দাবিগুলো তুলে ধরেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আসিফ বলেন, “বর্তমানে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ৬০০-এর বেশি আসন খালি রয়েছে। যেখানে দেশের স্বাস্থ্যসেবা সংকট চলছে, সেখানে এভাবে আসন খালি থাকা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতি বছর শূন্য আসন পূরণে দ্বিতীয় দফা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়ে থাকে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে তিনবার ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে দুইবার সার্কুলার দেওয়া হয়েছিল। তাহলে এবারই বা কেন ব্যতিক্রম হচ্ছে?”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিজিএমই) গত ২৫ মে’র আগেই মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করেছিল, শূন্য আসন থাকলে দ্বিতীয় দফা সার্কুলার দেওয়া হবে। কিন্তু এখন ‘পোর্টাল বন্ধ’ থাকার অজুহাত দেখিয়ে সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ।

তারা প্রশ্ন তোলেন—“শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কি শুধুই একটি পোর্টালের ওপরে নির্ভর করবে? প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা বলে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে কি অবহেলা করা হচ্ছে?”

এছাড়াও শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তারা নিজের খরচে পড়াশোনা করতে চায়, সরকারকে কোনো ভর্তুকিও দিতে হবে না। তবু শূন্য আসন থাকা সত্ত্বেও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা গত ১৫ জুন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, “ডিজিএমই-এর কিছু কর্মী এবং তাদের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু দুর্বৃত্ত আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এর এখনও কোনো বিচার হয়নি।”

তাদের ভাষায়, “যে রাষ্ট্র ছাত্রদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে, আজ সেই ছাত্রদের ন্যায্য অধিকারও মানতে রাজি নয়।”

চার দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা:

  1. ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শূন্য থাকা আসন পূরণে অবিলম্বে দ্বিতীয় দফা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।

  2. ২৫ মে’র পূর্বে দেওয়া সরকারি আশ্বাস অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ।

  3. ‘পোর্টাল বন্ধ’ অজুহাত প্রত্যাহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ভর্তি পোর্টাল পুনরায় চালু।

  4. ১৫ জুনের হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থী কোটা পূরণ না হলে দেশি শিক্ষার্থীদের দিয়ে আসন পূরণের যে নিয়ম রয়েছে, তার বাস্তবায়নও হচ্ছে না। তারা এটিকে একটি “সুশৃঙ্খল বৈষম্য” হিসেবে আখ্যা দেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন