সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

খাওয়ার শুরুতে লবণ মুখে দেওয়া কি সুন্নত?

ডেস্ক রিপোর্ট।।

খাবার শুরুতে মুখে লবণ দেওয়াকে অনেকে ‘সুন্নত’ হিসেবে পালন করলেও ইসলামি স্কলাররা জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্য হাদিস বা প্রমাণ নেই। বরং এ বিষয়ে যে বর্ণনাগুলো প্রচলিত, তার অধিকাংশই জাল ও বানোয়াট।

ইদানীং সামাজিক মাধ্যমে এবং জনমনে এমন একটি বিশ্বাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, “খাওয়ার আগে ও পরে লবণ খাওয়া সুন্নত” এবং এর মাধ্যমে নাকি ৩৬০ ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এমন বক্তব্য নবিজি (সা.)-এর নামে মিথ্যা রটনার শামিল।

কোনো সহিহ হাদিস নেই

হাদিস বিশারদরা বলেন, বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) খাবারের শুরুতে লবণ খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন—এমন কোনো সহিহ বা হাসান হাদিস হাদিস গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায় না। এমনকি নির্ভরযোগ্য কোনো সাহাবির থেকেও এ ধরণের কোনো আমল প্রমাণিত নয়।

জাল হাদিসের সতর্কতা

বহুল প্রচলিত একটি হাদিসে বলা হয়:

“যে ব্যক্তি খাবারের আগে ও পরে লবণ খায়, সে ৩৬০ রোগ থেকে নিরাপদ থাকবে, যার মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের রোগ কুষ্ঠ ও ধবল।”

এই কথাটি প্রসঙ্গে হাদিস বিশারদ হাফেজ সুয়ুতি (রহ.) ও ইমাম ইরাকি (রহ.) উভয়ে একমত হয়েছেন যে এটি একটি জাল হাদিস। (সূত্র: আল-আসরারুল মারফুয়া ও আল-লাআলি আল-মাসনুয়া)।

জাল হাদিস প্রচারের পরিণতি ভয়াবহ

ইসলামে হাদিস জাল করা বা মিথ্যা প্রচার করাকে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন:

“আমি যা বলিনি, কেউ যদি তা আমার নামে বলে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আসন নিশ্চিত করে নেয়।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৮)

ধর্মীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন, সুন্নত বিষয়ক যে কোনো আমলের আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি, যাতে ভুল প্রচার বা ‘মিথ্যা ইবাদত’ মুসলিম সমাজে না ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় মানুষ অজান্তেই এমন আমল করে যা শরিয়তসম্মত নয়—এবং তা শেষমেশ বিদআত বা কুসংস্কারে পরিণত হয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন