ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমের উপকণ্ঠে রামোট জংশন এলাকায় এক বাসস্ট্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১ জন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম।
ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, দুই বন্দুকধারী গাড়িতে করে এসে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এক বেসামরিক নাগরিক ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হামলাকারীদের গুলিতে হত্যা করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে বন্দুক, গুলি এবং ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারীদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস এই হামলার প্রশংসা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল “ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতিশোধমূলক হামলা”। তবে সংগঠনটি বা অপর গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ— কেউই এখনও দায় স্বীকার করেনি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ঘটনার পরপরই জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকে অংশ নেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা রামোট এলাকা এবং এর আশপাশে সেনা মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ অঞ্চলেও অভিযান চালানো হচ্ছে, হামলাকারীদের সম্ভাব্য সহযোগীদের খুঁজে পেতে।
রামোট জংশন এলাকা ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল কর্তৃক দখলকৃত এবং পরবর্তীতে সংযুক্ত একটি অঞ্চল, যা আন্তর্জাতিক মহলের অধিকাংশই অবৈধ দখল হিসেবে বিবেচনা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই হামলা নতুন করে সংঘাতের ঘনীভবন ঘটাতে পারে। ইতিমধ্যে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা অভিযান এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।

