২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘রাতের ভোট’ সংক্রান্ত বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে সাবেক দুদক কমিশনারসহ ১২ জন সাবেক ও বর্তমান সচিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ধানমন্ডিতে সরকারের একটি আবাসন প্রকল্প থেকে ‘বিশেষ সুবিধায়’ ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার অভিযোগেই এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭, ১৮ ও ২১ সেপ্টেম্বর তিন দফায় সংশ্লিষ্টদের কমিশনে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।
দুদক মনে করছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ‘নির্বাচনী সহায়তার’ বিনিময়ে সরকারপক্ষের নির্দেশে ধানমন্ডির হাউজিং প্রকল্পে বিশেষ মূল্যে এসব কর্মকর্তাকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। যদিও প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, এই সুবিধা তারা পাওয়ার কথা নয়।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এদের অনেকেই তৎকালীন প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন এবং ‘নির্বাচনী সহায়তায়’ নানাভাবে যুক্ত ছিলেন।
যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, তলবকৃতদের মধ্যে রয়েছেন একজন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সাবেক দুজন দুদক কমিশনার, সাবেক জনপ্রশাসন সচিব, একজন অর্থ সচিব ও একাধিক বিভাগীয় কমিশনার।
তবে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি তদন্তের স্বার্থে।
সম্প্রতি ‘হাউজিং ধানমন্ডি প্রকল্প (ফেজ-১)’ থেকে ১২ কর্মকর্তার ফ্ল্যাট বরাদ্দ বাতিল করে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক প্রতিবেদন অনুসারে, বরাদ্দে স্বচ্ছতা ছিল না এবং যোগ্যতার শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের মুখপাত্র মো. রুহুল আমিন বলেন,
“বিশেষ একটি আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আগেই বিতর্ক তৈরি হয় ‘ভোটের আগের রাতে’ ব্যালট বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ নিয়ে। তখন থেকে বিভিন্ন মহল এ নিয়ে তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পেছনের ‘গোপন প্রক্রিয়া’ নিয়ে আলোচনার নতুন দরজা খুলেছে। যদিও অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রভাবশালী কিছু কর্মকর্তাকে নিশানা করা হচ্ছে।

