তিন দিনব্যাপী টানা ভোট গণনার পর শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জাকসু) নির্বাচন। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক লুৎফুল এলাহী জানান, ২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি কেন্দ্রের ফলাফল গণনা সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন,
“শুধুমাত্র কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং রবীন্দ্রনাথ হলের ভোট গণনা বাকি রয়েছে। হাতে গণনার কারণে সময় বেশি লাগছে, তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই নিরলসভাবে কাজ করছেন।”
জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন,
“সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। রাত সোয়া ১০টা থেকে শুরু হয় ভোট গণনা, যা শনিবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই দীর্ঘসূত্রিতার পেছনে মূল কারণ হিসেবে ‘হাতে গণনার প্রক্রিয়া’ এবং **‘নিরাপত্তাজনিত জটিলতা’**কে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাকসু নির্বাচন ঘিরে শুরু থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। নির্বাচনকে ঘিরে ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড না থাকা’, ‘অনিয়ম’, এবং ‘অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া’—এসব অভিযোগ তুলে বিএনপিপন্থী চার শিক্ষকসহ একজন নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেন।
এছাড়া ছাত্রদলসহ মোট চারটি প্যানেল নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বয়কটের ঘোষণা দেয়। তবে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে।
জাকসু নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ছিল ১১,৮৯৭ জন।
এর মধ্যে ছাত্র: ৬,১১৫ জন
ছাত্রী: ৫,৭২৮ জন
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৬৭–৬৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, সন্তোষজনক।

