বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আরব দেশগুলো, আসছে কঠোর ব্যবস্থা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

এক সময় নিজেকে স্থিতিশীলতার প্রতীক মনে করত উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো। গগনচুম্বী ভবন, দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি ও কোটি কোটি প্রবাসীর ঘামে গড়া উন্নয়নের আড়ালে তারা নিজেদের নিরাপদ ভাবত। তবে ২০২৫ সালে এসে সেই নিরাপত্তার আবরণে বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

চলতি বছর একের পর এক হামলায় আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রথমে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা, এরপর সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের টার্গেট হামলা—সব মিলিয়ে উপসাগরীয় নিরাপত্তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

দোহার ওপর সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলা নিয়ে কাতার বলেছে, এটা “আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন”। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের নেতাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।

তবে সামরিক প্রতিশোধের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় কাতার জানিয়েছে, এই আগ্রাসনের জবাব হবে আঞ্চলিকভাবে সম্মিলিত। আরব ও ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর যৌথ প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং আসন্ন সপ্তাহান্তে দোহায় অনুষ্ঠিতব্য আরব-ইসলামিক সম্মেলনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ইসরায়েলি হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দোহা সফরে যান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। এরপর বাহরাইন ও ওমান ঘুরে তিনি আঞ্চলিক সংহতির আহ্বান জানান।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে কাতারে হামলাকে “নিষ্ঠুর ও কাপুরুষোচিত” উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানায় এবং তেলআবিবে নিযুক্ত ইসরায়েলি কূটনীতিককে তলব করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমিরাতের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) সদস্যদের মধ্যে বহু পুরোনো ‘পেনিনসুলা শিল্ড ফোর্স’ নামের একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো থাকলেও তা এতদিন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। সৌদি-ভিত্তিক গালফ রিসার্চ সেন্টারের প্রধান আবদুলআজিজ সাগের বলেছেন,

“এখনই সময় এই প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সক্রিয় করে যৌথ কমান্ড ও আকাশ প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার।”

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যত নিয়েও এখন সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প কৌশলের দিকে ঝুঁকতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলার মতো বিশাল সার্বভৌম তহবিল রয়েছে উপসাগরীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি—কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত ও আমিরাতের হাতে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে—বিনিয়োগ প্রত্যাহার, বয়কট এবং লেনদেন সীমিতকরণ।

কুয়েতি অধ্যাপক বাদের আল-সাইফ সতর্ক করে বলেছেন,

“এখনই দৃঢ় অবস্থান না নিলে উপসাগরের অন্য কোনো রাজধানী হতে পারে পরবর্তী হামলার লক্ষ্য।”

গাজা যুদ্ধের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগর পর্যন্ত। রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা স্তরে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। দোহা এখন আর শুধু একটি রাজধানী নয়, বরং এক নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন