৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি এড়াতে পূর্বঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচির সময়সূচি পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে পরিবর্তন করে বিকেলে কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিসিএস পরীক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত সচেতন ও দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়েছে। তাই ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সকালবেলা কোনো কর্মসূচি নয়, বিকেলে কর্মসূচি পালন করা হবে।”
এর আগে সকালে জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার দিন আন্দোলনের সময় নিয়ে তারা পুনর্বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করা হবে।
১৫ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘোষিত হয় ১৮, ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ৫ দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, গণগ্রেফতার বন্ধ, ইসলামী চিন্তাবিদদের মুক্তি, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার
ইত্যাদি।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ১৯ সেপ্টেম্বর দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন প্রায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার চাকরিপ্রার্থী।
পরীক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের সময় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে, বিষয়টি আমলে নেয় জামায়াতে ইসলামী। দলটি তাদের ঘোষণা থেকে সরেও যায়নি, আবার পরীক্ষার্থীদের দিকেও সংবেদনশীলতা দেখিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আমরা আন্তরিকভাবে দোয়া করি, বিসিএস পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে এবং সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে দেশ গঠনে অবদান রাখতে সক্ষম হয়।”
উল্লেখ্য, ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা মূলত ২৭ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরে তা পিছিয়ে ৮ আগস্ট করা হয়। সর্বশেষ পরিবর্তন অনুযায়ী, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। এবারের বিসিএসে মোট ৩,৪৮৭ জন ক্যাডার এবং ২০১ জন নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

